বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হলো না আর্জেন্টিনার। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে পরাজয়ের পর রানার্সআপ হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করতে হয়েছে লিওনেল মেসিদের।
ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও প্রতিপক্ষের কৃতিত্ব অকপটে স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশরা একের পর এক সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে করা একমাত্র গোলেই নির্ধারিত হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ভাগ্য।
পরাজয়ের পর আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, সত্যি বলতে, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা ম্যাচে হেরেছি এবং সেই ফল মেনে নিচ্ছি।
১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য ছিল আর্জেন্টিনার। তবে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় সমর্থকদের উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
তিনি বলেন, আমি দুঃখিত। তবে আমি জানি, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েই খেলেছি। মাঠে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।
মেসি আরও বলেন, একটি পরাজয় পুরো টুর্নামেন্টে দলের অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে না। সতীর্থদের লড়াই এবং সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ভাষায়, এই হার মানে নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা অর্জন করেছি, তা ভুলে যেতে হবে। আমি আমার সতীর্থ, দেশের মানুষ এবং পুরো আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ জানাই, যারা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন।
ফাইনালে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার সাফল্যে বড় অবদান ছিল মেসির। তিনি ৮ গোল করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অ্যাসিস্ট করে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে নেতৃত্ব দেন। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি টুর্নামেন্টের সিলভার বল অর্জন করেন।
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতছাড়া হলেও পরাজয়কে মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করে প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় তার অশ্রুসিক্ত চোখ যেন একটি হার নয়, বরং বিশ্বকাপ মঞ্চে এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের আবেগঘন সমাপ্তির প্রতীক হয়ে রইল।