বিশ^কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বমঞ্চে নবাগত জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘জে’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নামবে লিওনেল মেসির দল। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দুটি অনন্য কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে টানা সাতটি গোলের রেকর্ড গড়লেন ৩৯ বছর বয়সি তারকা। টানা ৬ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের জর্জিনহো এবং ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের। বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে তার গোল সংখ্যা এখন ৬। ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলের সাবেক রবার্তো রিভেলিনোর ৫ গোলের রেকর্ড।
রোববার সকালে ‘জে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে নবাগত জর্ডানকে হারাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। প্রথমার্ধে জিওভানি লো সেলসো ফ্রি কিক ও লাউতারো মার্তিনেজ পেনাল্টি থেকে জাল খুঁজে নিলে চালকের আসনে বসে পড়ে আর্জেন্টিনা। বিরতির পর শুরুর দিকে মুসা তামারির গোলে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ের আভাস দেয় জর্ডান। তবে ফ্রি কিক থেকে মেসি সরাসরি নিশানা ভেদ করলে নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের জয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার এটি ১৯তম গোল।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া আগেই নিশ্চিত হওয়ায় ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল কেবলই নিয়মরক্ষার। তাই বেঞ্চের শক্তি পরখ করতে একাদশে নয়টি পরিবর্তন আনেন দলটির কোচ স্কালোনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গত ম্যাচের একাদশে থাকা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ কেবল টিকে যান। শুরু থেকেই বলের দখল রেখে জর্ডানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে শিরোপাধারীরা। ষষ্ঠ মিনিটেই লো সেলসোর লক্ষ্যভেদে উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনা। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
লিড পেতে অবশ্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯তম মিনিটে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে ফ্রি কিক মেলে তাদের। লো সেলসোর নেওয়া বাঁ পায়ের বাঁকানো শট দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো। ডি-বক্সের ভেতর মার্কোস সেনেসি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি লাউতারো। উল্টোদিকে ঝাঁপ দেওয়া গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লায়লার কোনো সুযোগই ছিল না বল আটকানোর। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল আলবিসেলেস্তেদের সামনে। নিকোলাস ওতামেন্দির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর লাউতারোর বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সোজাসুজি শট নিয়ে হতাশ করেন হুলিয়ান আলভারেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লাউতারোর কাটব্যাক থেকে লো সেলসো ফের বল জালে পাঠান। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে লাউতারো অফসাইডের কারণে সেটিও বাতিল হয়। ৫৪তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে ব্যবধান কমায় আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া জর্ডান। এহসান হাদ্দাদের ক্রসে বল পেয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন বদলি হিসেবে নামা তামারি। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও রুখতে পারেননি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে তুমুল করতালির মধ্যে মাঠে নামেন মহাতারকা মেসি। পাঁচ মিনিট পর একটি ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবে ৮০তম মিনিটে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিকে ঠিকই জালের দেখা পান। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে রক্ষণদেয়ালের পাশ ঘেঁষে নেওয়া নিচু শটে গোল করেন তিনি। বাকি সময় চেষ্টা করলেও আর গোল পায়নি আর্জেন্টিনা।