জসিম উদ্দিন মনছুরি
প্রত্যেক জাতি ও সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি কালচার ও সংস্কৃতি বিদ্যমান। প্রতিটি জাতি নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে। নিজস্ব পোশাক পরিচ্ছেদ দ্বারা জাতিগোষ্ঠী পরিচিতি লাভ করে। যেমন বাঙালিদের চিরচেনা পোশাক লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি, মহিলাদের জন্য শাড়ি। উপজাতীয়দের পোশাকের মধ্যেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। ইচ্ছা করে নিজস্ব সংস্কৃতিকে অস্বীকার করা যায় না। যুগে যুগে মানুষ নিজস্ব সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে সমাজে পরিচিতি লাভ করে আসছে। আধুনিক যুগে পোশাক পরিচ্ছদ ও সংস্কৃতি পরিবর্তিত হয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতা গ্রহণ করলেও নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যায় না। জোর করে কাউকে পোশাকে বাধ্য করাও যায় না। পোশাকের স্বাধীনতা একটি সংবিধান স্বীকৃত বিষয়। পোশাকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দেশীয় পোশাকে জাতির পরিচিতি প্রস্ফুটিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে মানুষের পোশাকের স্বাধীনতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদগুলোতে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকারের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে, যার অধীনে নিজের পছন্দমতো পোশাক পরিধান করা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। পোশাকের স্বাধীনতার মূল ভিত্তিগুলো: ৩১ অনুচ্ছেদ: এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, আইনের আশ্রয়লাভ যেকোনো নাগরিকের অধিকার। আইনানুযায়ী এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যা কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে। ৩২ অনুচ্ছেদ: এই অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইসলামেও শালিন পোশাক পরার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পোশাককে নির্ধারিত করে দেওয়া না হলেও কিছু প্যাটার্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন- ইসলামে বাকস্বাধীনতা ও শালিন পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। উভয় বিষয়ে ইসলামের মৌলিক অভিমত হলো: ১. বাকস্বাধীনতা (Freedom of Expression) ইসলামে সত্য বলা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজের প্রতিবাদ করা প্রত্যেক মুসলিমের মৌলিক দায়িত্ব। মতামত প্রকাশের অধিকার: ইসলাম মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার এবং ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার অধিকার দিয়েছে। এমনকি শাসকের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং যৌক্তিক সমালোচনা করারও অনুমতি দিয়েছে। সীমাবদ্ধতা: বাকস্বাধীনতার নামে ইসলাম মিথ্যাচার, গীবত (পরনিন্দা), অশ্লীলতা, অন্যের মানহানি বা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে। ২. পোশাকের বিধান (Dress Code) ইসলাম পোশাককে শুধুমাত্র লজ্জা নিবারণের উপায় হিসেবেই দেখে না, বরং এটি ব্যক্তির শালিনতা, রুচি ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। সাধারণ মূলনীতি: পোশাক অবশ্যই পবিত্র, পরিচ্ছন্ন, শালিন এবং শালিনতা রক্ষায় পর্যাপ্ত ঢিলেঢালা হতে হবে। অহংকার প্রকাশ পায় না এমন পোশাক পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরুষের পোশাক: পুরুষদের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত আবৃত রাখতে হবে। এছাড়া পুরুষদের জন্য রেশমি কাপড় ও স্বর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ।নারীর পোশাক: নারীদের ক্ষেত্রে মুখ ও কব্জি বাদে পুরো শরীর ঢেকে রাখার (হিজাব) বিধান রয়েছে, যাতে তারা সমাজের সর্বস্তরে শালীন ও নিরাপদ থাকেন। ইসলাম বাকস্বাধীনতা ও পোশাকের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে, তবে তা অবশ্যই শালিনতা, নৈতিকতা এবং শরিয়তের নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে হতে হবে।
বাক স্বাধীনতাও সংবিধান স্বীকৃত একটি বিষয়। নাগরিকের স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকার সর্বজন স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় একটি বিষয়। দেশেই মানবাধিকার ক্ষুন্ন হলে দেশের সাধারণ জনগণ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে না। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন মতামতের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বাকস্বাধীনতার বিষয়টি বর্ণিত আছে। এই অনুচ্ছেদের মূল বিষয়বস্তু ও শর্তাবলি হলো:অধিকারের নিশ্চয়তা: ৩৯(২) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ: তবে এই স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালিনতা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনের প্ররোচনার স্বার্থে আইন দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে এটি ভোগ করতে হয়।
পোষাক ও বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া হলেও তবে এই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় রীতি-নীতি ও আইন মেনে পরিচালিত হওয়া চাই। যেহেতু রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রীয় আইন ও সংবিধান মানতে বাধ্য। তবে পোশাক পরিচ্ছদ হওয়া চাই শালিন ও দেশীয় সভ্যতা, সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলামে পোশাক ও বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া হলেও কিছু নিয়ম নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে কারো পোশাক ও বাক স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা মানবাধিকার পরিপন্থী। কারো পোশাক পরিচ্ছেদের উপর হস্তক্ষেপ করা আইন পরিপন্থী। ধর্মীয় পোশাক পরিধান মৌলিক অধিকার, বাঁধা প্রদান ফৌজদারি অপরাধ।
সাম্প্রতিক একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মন্তব্য করেছেন বোরকা বা হিজাব যারা পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে না যায়, তার মতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে ঘরে বসে থাকা উচিত! এরকম বেশ কয়েকটি সংবিধান বহির্ভূত মন্তব্য এবং কাজের নজির আমাদের উচ্চ শিক্ষিত অনেকের কাছ থেকে এসেছে।বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হাওয়ায় এখানে ধর্মীয় পোশাক তথা ধর্ম অনুশীলনে বাঁধা দেয়া এটা শুধু সংবিধানের অবমাননাই নয় বরং ফৌজদারি অপরাধও বটে।
বাকস্বাধীনতার ব্যাপারেও রাষ্ট্র,সংবিধান ও ইসলাম স্বাধীনতা দিয়েছেন। বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষে সংবিধান ও ইসলাম পরিপন্থী। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাকস্বাধীনতার অর্থ আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে স্বাধীনভাবে নিজের বক্তব্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বুঝায়। যা অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করেনা। শয়তানের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কোন কাজ করলে বা কোন কথা বললে সেটি বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হিসাবে গণ্য হবেনা, বরং সেটি স্বেচ্ছাচারিতা ও পশুত্বের স্বাধীনতা হবে। যা মানুষের সমাজে কাম্য নয়।
ইসলামিক দৃষ্টিতে বাক স্বাধীনতার গুরুত্ব : মানুষকে আল্লাহ সেরা সৃষ্টির মর্যাদায় ভূষিত করেছেন (বনি ইসরাঈল ১৭/৭০)। আর আল্লাহ একমাত্র মানুষকেই কথা বলার ক্ষমতা দান করেছেন (রহমান ৫৫/২)। অন্য কোন সৃষ্টিকে আল্লাহ এই ক্ষমতা দেননি। মানুষকে এই বাকস্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে আল্লাহর দেখানো পথে নিজের জীবন ও সমাজ পরিচালনার জন্য। প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ পৃথক পৃথক মেধা, রুচি, শক্তি ও জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যার মাধ্যমে একে অপর থেকে কাজ নিয়ে সুষ্ঠুভাবে সমাজ পরিচালনা করতে পারে (যুখরুফ ৪৩/৩২)। সে কারণে প্রত্যেককে স্ব স্ব মেধা ও রুচির বিকাশ ঘটানোর স্বাধীনতা তিনি দিয়েছেন। ইসলাম-পূর্ব যুগে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র দাস-দাসী রূপে মানুষ ক্রয়-বিক্রয় হ’ত। নারীদের কোন বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিলনা। বিবাহে তাদের মতামতের কোন গুরুত্ব ছিলনা। তারা বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকারী ছিলনা। তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকার পেতনা। বিধবা বিবাহ ছিলনা। এমনকি হিন্দু সমাজে বিধবা নারীদের মৃত স্বামীর সঙ্গে জ্বলন্ত চিতায় একই সাথে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হ’ত। ‘সতীদাহ’প্রথা যা ধর্মীয় বিধান হিসাবে চালু ছিল। যাতে নারীরা ও তাদের অভিভাবকরা স্বর্গসুখ লাভের উদ্দেশ্যে খুশী মনে এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর কাজে রাযী হয়ে যায়। কন্যা সন্তানকে জঞ্জাল মনে করা হ’ত। আর সেজন্য তাকে জন্মের পরপরই গর্তে পুঁতে বা অন্যভাবে মেরে ফেলা হ’ত। বর্তমানে ব্যক্তি স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ভ্রুণ হত্যা, গর্ভপাত, গর্ভনিরোধ ও গর্ভভাড়া প্রভৃতি অমানবিক কাজ আইনের নামে সিদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে যে, পূর্বকালে যেমন কোন দেশে ভাল-মন্দ আইনের কোন চূড়ান্ত মানদণ্ড ছিলনা, আজও সেটা নেই। বরং সেখানে বেনামীতে স্বেচ্ছাচারিতাই চূড়ান্ত মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান কালের বাকস্বাধীনতা : বর্তমান যুগের দলীয় গণতন্ত্র বাকস্বাধীনতা হরণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসাবে কাজ করছে। যেখানে শাসক দলের মত-মর্জিই সব ব্যাপারে চূড়ান্ত হিসাবে গণ্য হয়। বিরোধী কোন মতই তারা সহ্য করেন না। কারণ প্রাচীন কালের ন্যায় তাদের কাছে চূড়ান্ত সত্যের কোন মানদণ্ড নেই। বর্তমান গণতন্ত্রে দলনেতা সকল কৈফিয়তের ঊর্ধ্বে। এমনকি সেখানে নিজ দলীয় এমপি-মন্ত্রীদেরও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ ধারাটি এমপিদের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। সেখানে (খ) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সংসদে (যদি কেউ) দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে’। ১৭ই এপ্রিল ২০১৭ সালে অনুচ্ছেদটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। কিন্তু উচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়।
বাংলাদেশে বিগত সরকার সমূহের ৫৭ ধারা, ১৪৪ ধারা, ১৫৭ ধারা; আইসিটি-আইন-২০১৩, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধিমালা-২০২০ প্রভৃতি বিধান সমূহ জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। কেউ কারো বই পড়ে বা বক্তব্য শুনে কোন অন্যায় করলে লেখক বা বক্তাকে উদ্বুদ্ধকারী হিসাবে দায়ী করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ এখন সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছে এবং সর্বদা আতংকে দিন কাটাচ্ছে। অথচ ব্যক্তি যতক্ষণ নিজে অপরাধ না করে, ততক্ষণ তাকে অপরাধী বলা যায় না বা তাকে শাস্তিও দেওয়া যায় না। দুনিয়ার সকল আইনে সর্বদা এটাই রয়েছে।
পোশাক মানুষের জন্য আল্লাহর অপার এক অনুগ্রহ। আদিকাল থেকে মানুষ পোশাকের ব্যবহার করে আসছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে বনি আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজসজ্জার বস্ত্র ও পরহেজগারির পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।’ (সুরা আরাফ : ২৬)। এ ধরনের কিছু নীতিমালা হলো-সতর আবৃত করা : লেবাস অবশ্যই সতর আবৃতকারী হতে হবে। পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত আর নারীর মুখমণ্ডল, পা, কব্জি ও হাত ছাড়া গোটা শরীর নামাজে আবৃত রাখা ফরজ। তদ্রুপ গাইরে মাহরাম ও পরপুরুষের সামনে মুখমণ্ডলসহ গোটা শরীর আবৃত রাখাও জরুরি। অতএব, পোশাকের মাধ্যমে যাতে এ প্রয়োজন পূরণ হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা অপরিহার্য। এত সংক্ষিপ্ত পোশাক পরিধান করা যে, সতর বা সতরের কিছু অংশ খোলা থাকে বা এত পাতলা কাপড় ব্যবহার করা যে, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দৃষ্টিগোচর হয়, তা নারী-পুরুষ সবার জন্যই হারাম ও নিষিদ্ধ। তদ্রুপ এত আঁটসাঁট পোশাক, যার ওপর দিয়ে শরীরের আবরণীয় অঙ্গসমূহ ফুটে ওঠে, তাও বর্জনীয়। পোশাক-পরিচ্ছদে দুটি বিষয়ে সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে- এক. কাফের-মুশরিকদের পোশাক গ্রহণ করা যাবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।’ (সুনানে আবি দাউদ : ৪০৩৩)। দুই. বিপরীত লিঙ্গের মতো পোশাক ধারণ করা যাবে না। অর্থাৎ পুরুষের জন্য নারীদের মতো আর নারীদের জন্য পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করা জায়েজ নয়। ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কে লজ্জা ও শালীনতা রক্ষাকারী পোশাক পরিধান করার নির্দেশ দিলেও পোশাকের ক্ষেত্রে উভয়কে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
বাকস্বাধীনতা ও পোশাকের ব্যাপারে বাংলাদেশের সংবিধান ও ইসলাম সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা জাতি হিসেবে বাঙালি হলেও দেশের অধিকাংশ জনগণ ইসলামিক ভাবধারায় পরিচালিত। আমাদের নিজস্ব সভ্যতা সংস্কৃতি ধারণ করেই আমরা প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছি। আবার ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা মুসলিম হিসেবে আমাদের ইসলামী রীতি নীতি অবলম্বন করে পরিচালিত হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। পোশাক পরিচ্ছদের স্বাধীনতা দেওয়া হলেও পোশাক যেন এমন না হয় যাতে শরীর আবৃত করেও অনাবৃত থেকে যায়। পোশাক পরিচ্ছদ নিজস্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতা কে ধারণ করে ইসলামী রীতিনীতি মেনে চলে পরিধান করা নারী-পুরুষ প্রত্যেকের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকের স্বাধীনতার নামে যেমন তেমন পোশাক পরিধান করা নিন্দনীয় এবং সভ্যতা সংস্কৃতির পরিপন্থী। আমরা মূলত বাঙালি হলেও যেহেতু দেশের অধিকাংশ জনগণ মুসলিম সুতরাং দেশীয় সংস্কৃতি সভ্যতা এবং ইসলামী রীতি-নীতি মেনে পোশাক পরিধান করা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য অপরিহার্য।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।