সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা ও নির্বাচনের নতুন তফসিল (শিডিউল) ঘোষণার দাবিতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানার মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ও গভর্নিং বডির নির্বাচনের প্রার্থীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. শাহজাহান খান, আবু সাদেক আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আলী, মো. খোর্শেদ আলম, আব্দুল কাদের প্রমুখ।
সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সচেতন অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক মো. শাহজাহান খান জানান, প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে অভিভাবকদের দাবির মুখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক নীতির যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে অদৃশ্য কারণে প্রিসাইডিং অফিসার গভীর রাতে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ জারি করেন। অথচ নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে প্রার্থীদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি এবং কোনো সুস্পষ্ট কারণও প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি অভিভাবক ভোটারদের জানানোর জন্য যথাযথ কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনে (গতকাল শনিবার) ৫ হাজারের অধিক অভিভাবক ভোটার ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি জানতে পারেন। এতে সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ, ক্ষোভ ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তাই নির্বাচন স্থগিতের সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল নির্বাচনের আগের দিন রাতে (শুক্রবার রাতে) বিদ্যালয়ের সামনে 'মব' (অরাজক পরিবেশ) সৃষ্টি করে। ওই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
মো. শাহজাহান খান জানান, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে—
১. নির্বাচন স্থগিতের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অথবা সর্বোচ্চ ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে স্থগিতকৃত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অন্য কোনো পক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ রোধে জেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা।
৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।