ক্রমেই কমে চলেছে খামারের সংখ্যা

উৎপাদন ব্যয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারছে না রাজশাহীর পোলট্রি শিল্প। ফলে ক্রমেই হ্রাস পেয়ে চলেছে হাঁস-মুরগির খামারের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিকে রাজশাহীর পোলট্রি শিল্পের জন্য চরম বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহীতে বর্তমানে লেয়ার খামার ১ হাজার ২৮৬টি, ব্রয়লার খামার ২ হাজার ২৮২টি, সোনালি মুরগির খামার ৫ হাজার ৭৫৩টি। এসব খামার থেকে বছরে প্রায় সোয়া ২ লাখ মেট্রিক টন গোশত এবং সাড়ে ৬০ কোটিরও বেশি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু খবর নিয়ে দেখা গেছে, গত এক দশকে রাজশাহী জেলার অর্ধেকেরও বেশি প্রান্তিক ও মাঝারি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। টানা লোকসানের ধাক্কা সামলাতে না পেরে পুঁজি হারিয়ে অনেক উদ্যোক্তা এখন ঋণের জালে জর্জরিত। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ডিম ও মুরগির দাম কম হওয়া এবং সিন্ডিকেট ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র প্রভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। পবা উপজেলার একজন খামারি জানান, এই ব্যবসা চালাতে গিয়ে মাসের পর মাস লোকসান গুনেছেন। সবশেষ তিন লাখ টাকা লোকসান মাথায় নিয়ে নিজের ব্রয়লার খামারটি ভেঙে ফেলেছেন। তিনি জানান, তার আশেপাশের গ্রামে অন্তত অর্ধশত খামারি গত দুবছরে খামার ভেঙে ফেলেছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, মাত্র এক দশক আগেও পবার মল্লিকপুর, পারিলা, কুখন্ডি, রণহাট, মোসলেম ও আশরাফের মোড়সহ পাশের এলাকাগুলোতে অন্তত ৩ হাজার পোলট্রি খামার ছিল। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের মুখে বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৩০০টি খামার। খামারি ও পোলট্রি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে মুরগির খাবার, ভ্যাকসিন, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে লাগামহীনভাবে। কিন্তু সেই তুলনায় ডিম বা মুরগির বিক্রয়মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ বর্তমানে সাড়ে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা। লোকসান দিয়ে খামারিদের সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ১০ টাকায়। ফলে প্রতিটি ডিম ও মুরগিতে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে ক্ষুদ্র খামারিদের। ফলে প্রান্তিক খামারিরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। প্রান্তিক খামারিদের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে রয়েছে বাজার সিন্ডিকেট এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। লোকসানের মুখে কম পুঁজির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যখন বাজার থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, ঠিক তখনই পুরো বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে তুলে নিচ্ছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন প্রান্তিক খামার বন্ধ হলেও রাজশাহীতে ডিম ও গোশতের উৎপাদন এখনো বার্ষিক চাহিদার তুলনায় বেশি। তারা এও স্বীকার করেন যে, মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক খামারিরা চরম সংকটে আছেন। প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।