৩৫০ কর্মকর্তার তথ্য পর্যালোচনা করছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড
কামাল উদ্দিন সুমন : বর্তমান সরকার চলতি মাসে প্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে। উপসচিব হিসেবে নিয়মিত ব্যাচ ২৫ এবং ব্যাচ ২৪-এর বাদপড়া কর্মকর্তাসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ কর্মকর্তার তথ্য পর্যালোচনা করছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, এরই মধ্যে এসএসবি সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে একাধিক সভা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের মার্চে যুগ্মসচিব পদে ১৯৬ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সময় নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিসিএস ২৪-এর পদোন্নতিযোগ্য ৩২০ জনের মধ্যে পদোন্নতি পান মাত্র ১৩৭ জন। নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন রদবদল ও দু’একজনের পদোন্নতি হলেও ব্যাচভিত্তিক বড় পদোন্নতি এবারই প্রথম আসতে হতে। উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এবার উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে নিয়মিত হিসেবে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের কর্মজীবনে অনুবেদন, প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরি জীবনের শৃঙ্খলা, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, গোয়েন্দা তথ্যসহ সামগ্রিক বিষয় এসএসবির সভায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে এসএসবির একাধিক বৈঠক হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা। পদোন্নতির ক্ষেত্রে নতুন ব্যাচের চেয়ে বিগত সময়ে বঞ্চিতদের সংখ্যা বেশি। সব মিলে আড়াইশর মতো কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রশাসনে বড় পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে সরকার।
নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগ দেন ২০০৬ সালের ২১ আগস্ট। সে সময় ১৯৯ জন কর্মকর্তা প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। এই কর্মকর্তারা উপসচিব হন ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর। ২০২৩ সালে যুগ্মসচিব পদোন্নতির কথা থাকলেও অপেক্ষায় কেটেছে আরও তিন বছর।
পদোন্নতি বিধিমালামতে উপসচিব পদে ন্যূনতম পাঁচ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথবা উপসচিব পদে অন্যূন তিন বছর চাকরিসহ ক্যাডার পদে ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছেন, বর্তমান প্রশাসনে যুগ্মসচিবের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫০২টি। তবে সরকারি কর্মচারী বাতায়ন দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, কর্মরত রয়েছেন ৮৯০ জন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকার হচ্ছে মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়া। তিনি সব সময় দক্ষতা, সততা ও মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন। এ কারণে যাচাই-বাছাইতেও যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তারাই প্রাধান্য পাবেন বলে আশা করি।
এই কর্মকর্তা বলেন, এবারের পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়মিত ২৫ ব্যাচকে মূল বিবেচনায় ধরে আগের ২৪ ব্যাচসহ অন্যান্য ব্যাচের বঞ্চিতদেরও প্রমোশনের কাজ চলছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে এসএসবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। চলতি মাসের মধ্যেই এই পদোন্নতির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে আশা করছি।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৫ ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আমরা চাই মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হোক, রাজনৈতিক ট্যাগ বা দলীয় রঙে কেউ যেন বাদ না পড়েন। এতে মেধাবী কর্মকর্তারা যেমন স্বস্তি পাবে, তেমনি প্রশাসনের কাজেও গতি বাড়বে। সরকারের যে কোনো কাজেও দ্রুত সফলতা আসবে। দেশ ও দেশের জনগণও উপকৃত হবে।
সূত্র জানান, ২৫ ব্যাচের নয় কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে এক ডিসি নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘পদোন্নতিতে কেউ যাতে দলীয় রঙে বাদ না পড়েন সেটা আমরা চাই, কাজের মূল্যায়ন হোক।
২৫ ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘কারও নামে মামলা বা দুর্নীতি থাকলে সেটার জন্য রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারে। তবে পদোন্নতির জন্য গোয়েন্দা রিপোর্ট সংগ্রহের পদ্ধতি থেকে বের হওয়া উচিত। এটি দিনদিন আমাদের স্বকীয়তা নষ্ট করে দিচ্ছে।’
৩৪ জন কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩৪ জন কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) পদে পদোন্নতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সহকারী সচিব শিফা নুসরাত।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৯ম গ্রেডের (২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা) সহকারী সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ পদোন্নতির আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।